রামপালে সরকারি খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ; জমিতে প্রবেশের পথ বন্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
হারুন শেখ বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:-
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার টেংরামারি মৌজায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত ঠালনতলা খাল অবৈধভাবে ভরাট করে ঘর ও পাকা গেট নির্মাণ এবং মালিকানা জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিকেরা নিজস্ব জমিতে প্রবেশের একমাত্র পথ হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলাম বরাবর আবেদন করেছেন রোমিছা খাতুন, রমলা বালা হালদার ও সুদীপ মন্ডল গং। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, টেংরামারি মৌজার আর.এস. ১৪০ নং খতিয়ানভুক্ত ১০৯ দাগের জমির বৈধ মালিক তারা। তাদের জমির তিন পাশ ঘিরে রয়েছে সরকারি রেকর্ডভুক্ত ঠালনতলা খাল এবং অপর পাশে রয়েছে সরকারি মহাসড়কের লেক ও রেললাইন। টেংরামারী মৌজার ১৪৮ ও ১১২ দাগে ঠালনতলা খালটি বড় একটি প্রবাহমান খাল। দীর্ঘদিন ধরে ওই খালটি ছিল পানি প্রবাহ ও যাতায়াতের স্বাভাবিক পথ, যা দিয়ে তারা জমিতে যাতায়াত করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন অবৈধভাবে ওই সরকারি খালটি বালু দিয়ে ভরাট করে সেখানে ঘর ও গেট নির্মাণ করেছেন। এতে শুধু সরকারি সম্পদ দখলই হয়নি, বরং ভুক্তভোগীদের জমিতে প্রবেশের একমাত্র পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা তাদের মোট ৮২ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলে রাখায় জমিতে চাষাবাদ বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না, যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন এবং আইনের আশ্রয়ও নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি খাল ভরাট ও দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ কারণে ভুক্তভোগীরা প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করলে, প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলামের প্যানেল শালিশে নেতৃবৃন্দ এ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন, সোয়াইব হোসেন সোয়েব, আবুল বাশার, মশিউর রহমান, বাদশাহ মোল্লা গত শনিবার সন্ধায় উভয়পক্ষের বক্তব্য রেকর্ড করেন। শালিশ বৈঠকের শোনানীকালে প্রবাহমান ঠালনতলা খালের প্রায় এক একর জায়গা বালু ভরাট করে দখল করা হয়েছে মর্মে জানা যায়। ভুক্তভোগীরা খাল দখলে সেই ১০ বছর পূর্ব থেকে বাঁধা দিয়ে আসলেও সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার খালেক ও স্থানীয় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জামু খাল দখলে সহায়তা করেন। যে কারণে তারা প্রতিকার পাননি। তারা আরো অভিযোগ করেন, ১৫-১৬ শতাংশ জমি কিনে খালসহ প্রায় ৪ একর জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ কারণে তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জমির মালিক আনোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্থানীয় প্রতিনিধি (এ্যাডমিন) সরদার পারভেজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রকল্পের মধ্যে খাল আছে কি না তিনি জানেন না। তবে জমিতে মামলা চলমান আছে সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র শালিশ বৈঠকে উপস্থাপন করেন এবং জমি দখলের বিষয়টি তিনি জানেন বলে দাবি করেন।
খালটি দখল মুক্ত করে পূর্বেকার অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)'র নেতা এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ, এম, এ সবুর রানা, আমিনুর ইসলাম নান্টুসহ নেতৃবৃন্দ।
This theme has been developed by JANABHUMIBARTA.