দুর্গাপুরে উদীচীর আয়োজনে ১৬৫তম রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদন, রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচী দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি শামছুল আলম খান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবু বীরেশ্বর চক্রবর্তী, সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, আদিবাসী ইউনিয়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি অবনী কান্ত হাজং এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দুর্গাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আহাদ মিয়া। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি মানবমুক্তি, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীল চিন্তার প্রতীক। তার সাহিত্য, গান ও দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ, মানবতা ও সাম্যের বাণী।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও অপসংস্কৃতির বিস্তারের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে রবীন্দ্রচেতনা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
বক্তারা প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সংস্কৃতি কখনো শাসকের হাতিয়ার হতে পারে না; সংস্কৃতি হবে মানুষের মুক্তির শক্তি।
শেষে বিশ্বকবির অমর বাণী “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” উদ্ধৃত করে বক্তারা একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
