‘১১ লাখ দেওয়ার পরও রক্ষা হয়নি’ যৌতুকের দাবিতে ছাদ থেকে ফেলে গৃহবধূকে হ/ত্যা
বিয়েতে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রায় এক কোটি রুপি খরচ করেছিল পরিবার। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৭ মাস পরেই লাশ হয়ে ফিরতে হলো ২৫ বছর বয়সি তরুণী দীপিকাকে। ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠ গ্রেটার নয়ডায় শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত যৌতুক না পেয়ে দীপিকাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
গতকাল রবিবার (১৭ মে) গভীর রাতে গ্রেটার নয়ডার ইকোটেক-৩ থানা এলাকার জলপুরায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম দীপিকা নগর। তার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য দীপিকার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
নয়ডার একটি মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুভেজা চোখে দীপিকার বাবা সঞ্জয় নগর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওরা একটি ফরচুনার গাড়ি আর নগদ ৫১ লাখ রুপি চেয়েছিল। তিনি জানান, বিয়ের মাত্র তিন-চার মাস পর থেকেই মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
আগে কেন পুলিশের দ্বারস্থ হননি- এমন প্রশ্নের জবাবে বিলাপ করতে করতে এই বাবা বলেন, আমরা পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করিনি। সবসময় ভেবেছি- সব ঠিক হয়ে যাবে, মানিয়ে নিক। মেয়ের সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর দীপিকার স্বামী ঋত্বিক তানওয়ার এবং শ্বশুর মনোজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সেন্ট্রাল নয়ডার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শৈলেন্দ্র কুমার সিং বলেন, গত রাতে আমরা খবর পাই, দেড় বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী নির্যাতন ও হত্যা মামলার দণ্ডবিধিতে নিহতের স্বামী ঋত্বিক তানওয়ার ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দীপিকার বাবার দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বিয়েতে নগদ ১১ লাখ রুপি, ৫০ লাখ রুপির স্বর্ণ, আসবাবপত্র এবং একটি স্করপিও গাড়ি যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট ছিল না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা আরও একটি ফরচুনার বিলাসবহুল গাড়ি এবং নগদ ৫১ লাখ রুপির জন্য চাপ দিচ্ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত রবিবার দীপিকা কাঁদতে কাঁদতে তার বাবাকে ফোন করেন এবং জানান যে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর ও গালিগালাজ করছে। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় দীপিকার বাবা কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে জামাতার বাড়িতে যান এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা চলে আসার কিছু সময় পরেই খবর পান, দীপিকা ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
