শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

আমতলীতে এতিম মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, পাষণ্ড খালু গ্রেপ্তার

আমতলীতে এতিম মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, পাষণ্ড খালু গ্রেপ্তার
প্রকাশিত:
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


 বরগুনার আমতলীতে আপন খালুর বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক এতিম মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত লম্পট খালু মো. আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেন (৪০) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রীর সহকারী। সে কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেন ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। গত রোজার ঈদে স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে সে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসে। শারীরিকভাবে অসুস্থতার অজুহাতে সে কয়েকদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিল। এর মধ্যেই সে তার ভায়রার মেয়ে (মা-হারা ওই এতিম মাদ্রাসা শিক্ষার্থী) ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয় এবং সুযোগ খুঁজতে থাকে।

গত ১৮ মে (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে নানার বাড়ির লোকজন মাঠে কাজে গেলে ঘরে ওই শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে আলমগীর তাকে হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত শনিবার বিকেলে আলমগীর আবারও ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই ভুক্তভোগীর নানী আমতলী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তভোগী ও স্বজনদের ভাষ্য

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলে, "দুই বছর বয়সে আমার মা মারা যান। এরপর থেকেই আমি নানার বাড়িতে বড় হয়েছি এবং মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছি। ঘটনার দিন খালু আমাকে খুনের ভয় দেখিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। শনিবার রাতে আবারও সে আমার ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা করলে আমি নানা-নানীকে বিষয়টি জানিয়ে দিই। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"

ভুক্তভোগীর নানী বলেন, "নিজের জামাই আমার নাতনীকে সর্বনাশ করেছে। আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছি। আমি এর কঠোর বিচার চাই।"

আইনি পদক্ষেপ

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নানী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী মেয়েটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার (ডাক্তারি পরীক্ষা) জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জনভূমি বার্তা ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
This theme has been developed by JANABHUMIBARTA.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন