কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু তিন দশক পরও রয়ে গেছে অজানা রহস্য
কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু তিন দশক পরও রয়ে গেছে অজানা রহস্য
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম সালমান শাহ। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি ভক্তের হৃদয়ের নায়ক। কিন্তু ১৯৯৬ সালের সেই হৃদয়বিদারক মৃত্যু আজও নাড়া দেয় পুরো দেশকে।
সেই সময়ের ঘটনাগুলো এখনো স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে প্রবীণ সাংবাদিক ওয়াহিদ মুরাদের স্মৃতিতে। মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ছুটে যান রাজধানীর ইস্কাটন টাওয়ারে—যেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন এই জনপ্রিয় নায়ক।
তিনি জানান, “ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। ভক্তদের কান্না আর হতাশা চোখে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়।”
পরবর্তীতে সালমান শাহর মরদেহ সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থান থেকে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়। সেই সময় একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ওয়াহিদ মুরাদ।
ফজরের নামাজের পর মরদেহ উত্তোলন করে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। ছোট একটি ট্রাকে চাটাইয়ে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহ বহনের সেই দৃশ্য আজও তাকে কাঁদায়।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সেদিনের দৃশ্য এখনো ভুলতে পারিনি। মনে হলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।”
সালমান শাহর মৃত্যুর পর সিলেটজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম। উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো শহর। কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যাও করেন—যা দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেদিন সিলেটে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ওয়াহিদ মুরাদ আরও জানান, তখনকার সময় তিনি দেশের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন “অপরাধ চিত্র”-এ কর্মরত ছিলেন। সেই সময়ের তোলা প্রতিটি ছবি ছিল অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ তখন ছিল নেগেটিভ ক্যামেরার যুগ।
তিনি বলেন, “সালমান শাহর মতো নায়ক শত বছরেও আর জন্মাবে কিনা সন্দেহ। তার মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ঘটনার তদন্ত, বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক ময়নাতদন্তের পরও আজ পর্যন্ত তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ভক্তদের মনে প্রশ্ন—কীভাবে মৃত্যু হলো এই কিংবদন্তি নায়কের? অনেকে মনে করেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।
আজও তার স্মৃতি, তার অভিনয় এবং তার অকাল মৃত্যু বয়ে বেড়াচ্ছে এক গভীর বেদনা।
