চট্টগ্রামের বন্যায় শত মানুষকে বাঁচিয়ে নিজেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে
চট্টগ্রামের বন্যায় শত মানুষকে বাঁচিয়ে নিজেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে মাঝি বেলাল উদ্দীনসব নায়কের গায়ে ইউনিফর্ম থাকে না। কেউ ক্ষমতার আসনে থাকেন না, কারও বুকে ঝোলে না কোনো পদক। তবু মানবতার টানে তারা মানুষের পাশে দাঁড়ান নিঃস্বার্থভাবে। কক্সবাজারের চকরিয়ার পহরচাঁদা গোবিন্দপুরের কৃষক ও নৌকার মাঝি বেলাল উদ্দীন ছিলেন এমনই একজন মানুষ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যখন বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, তখন নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে নৌকা নিয়ে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন তিনি। একের পর এক বাড়িতে গিয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুর্যোগের সেই সময়ে মানুষের বিপদকে কখনো উপার্জনের সুযোগ হিসেবে দেখেননি; বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
কিন্তু বন্যার সেই লড়াইয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই নেমে আসে জীবনের শেষ অধ্যায়। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর ১৪ জুলাই নিজ কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেন বেলাল উদ্দীন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। যেসব মানুষ কয়েক দিন আগেও তার নৌকায় চড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছিলেন, আজ তারাই এই মানবিক মানুষটির জন্য দোয়া করছেন।
বেলাল উদ্দীন কখনো কোনো পুরস্কার বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা করেননি। সংবাদ শিরোনামে আসাও ছিল না তার লক্ষ্য। মানুষের বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তার একমাত্র পরিচয়।
স্থানীয়দের কাছে তিনি শুধু একজন মাঝি বা কৃষক নন, একজন মানবিক মানুষ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কারণ কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাদের মানবতা ও নিঃস্বার্থ কাজ মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।
